Ads 468x60px

Featured Posts Coolbthemes

Saturday, December 24, 2011

আমাদের রাজশাহী


বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত রাজশাহী এক ইতিহাসখ্যাত নগরী। প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধন জনপদের অংশ রাজশাহীর জনবসতি হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন, মোগল, ইংরেজরা এ অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এ অঞ্চলে রাজারাজড়াদের অবাসস্থলকে কেন্দ্র করে নাম হয়েছে রাজশাহী। পঞ্চদশ শতকে ভাতুরিয়া দিনাজপুরের জমিদার রাজা কংস বা গনেশ এ অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। তিনি রাজা শাহ নামে পরিচিতি ছিলেন। মনে করা হয় ‘রাজা’ আর ‘শাহ’ মিলে রাজশাহী নামকরণ হয়েছে। এ শহরের নিচ দিয়ে বয়ে গেছে একদা প্রমত্তা পদ্মার প্রাণলীলা। শহরের দক্ষিণে পদ্মার বিশালতা হাতছানি দেয়। শহরের পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর আম্রকানন দিয়ে পরিবেষ্টিত।
১৭৭২ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে রাজশাহী জেলা সৃষ্টি হয়। তখন রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ ছাড়াও বগুড়া ও পাবনা এবং বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলার বৃহদাংশ ছিল এ জেলার অন্তর্গত। ১৮৭৬ সালে রাজশাহী পৌরসভা সৃষ্টি হয় এবং ১৯৮৭ সালে এটি পৌর কর্পোরেশনের মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে একটি সিটি কর্পোরেশন, ১২টি পৌরসভা, ৯টি উপজেলা, ৭১টি ইউনিয়ন এবং ১৮৫৮টি গ্রাম নিয়ে রাজশাহী জেলা গঠিত।

ইতিহাস:
রাজশাহী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের (উত্তরবঙ্গের) একটি প্রধান শহর | এটি রাজশাহী বিভাগ এর রাজশাহী জেলার অন্তর্গত । রাজশাহী শহর বিখ্যাত পদ্মানদীর তীরে অবস্থিত। এটি রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় শহর। রাজশাহী শহরের নিকটে প্রাচীন বাংলার বেশ কয়েকটি রাজধানী শহর অবস্থিত। এদের মাঝে লক্ষণৌতি বা লক্ষনাবতি, পুন্ড্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। রাজশাহী তার আকর্ষণীয় রেশমীবস্ত্র (Silk), আম, লিচু এবং মিস্টান্নসামগ্রীর জন্য প্রসিদ্ধ। রেশমীবস্ত্রের কারণে রাজশাহীকে রেশমনগরী (Silk City) নামে ডাকা হয়। রাজশাহী শহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের অনেকগুলির খ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। নামকরা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য রাজশাহী শহর শিক্ষানগরী নামেও পরিচিত। রাজশাহী শহরে এবং এর আশেপাশে বেশ কিছু বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয় রয়েছে।



জলবায়ু:
বাংলাদেশের অবস্থান ক্রান্তীয় অঞ্চলে বলে এখানকার আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ।
মহানগরের গড় তাপমাত্রা = ২৩.৮৩ সে :(১৯৯১-১৯৯৬)
মহানগরের বাষির্ক বৃষ্টিপাত = ১৪৪৭.৬মি.মি.(১৯৯৬-২০০১)
বাষির্ক গড় আদ্রতা = ৭৬% (২০০১)


ভৌগলিক তথ্য:
আয়তন ‍ঃ ২৪-০৫', ২৫-১৪' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮-০১' হতে ৮৯-২৫' পূর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত।
আয়তন ‍ঃ (রাসিক এলাকা) = ৯৬.৭২ বর্গ কিলোমিটার।
সীমানা ‍ঃ প্রমত্তা পদ্মার উত্তর ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা রাজশাহী মহনগরীর চতুপার্শ বেড়া দিয়ে আছে রাজশাহী জেলার পবা থানা। উত্তরে: মৌজা হড়গ্রাম জে এল নং ৪৩, মৌজা সড়কগ্রাম জে এল নং ১০৯, মৌজা মেহেরচন্ডি জে এল নং ১২০।
দক্ষিণে: পদ্মা নদী । পূর্বে : মৌজা বুধপাড়া জে এল নং ১২৫, মৌজা মিজার্পুর জে এল নং ১১৯, মৌজা ডাঁশমারী জে এল নং ১৯৪। পশ্চিমে : মৌজা গোয়ালপাড়া জে এল নং ৪২, মৌজা হাড়ুপুর (আংশিক) জে এল নং ২১৬।
Reade more >>

তেলচালিত ল্যাপটপ বানাবে অ্যাপল

জ্বালানি তেলে চলে এমন ল্যাপটপ তৈরির জন্য সম্প্রতি দুটি পেটেন্ট আবেদন করেছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। এমনকি, ভবিষ্যতে হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহার করেও চালানো যাবে অ্যাপলের তৈরি ল্যাপটপ। খবর টাইম ম্যাগজিন-এর।

২২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে করা এ পেটেন্ট আবেদনে অ্যাপল প্রযুক্তিটির নাম দিয়েছে ‘ফুয়েল সেল সিস্টেম টু পাওয়ার এ পোর্টেবল কম্পিউটিং ডিভাইস’। এ প্রযুক্তির দুটি অংশ। এটি অংশের আবেদনে বলা হয়েছে, কম্পিউটারে তেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি হবে আর সে বিদ্যুৎই ল্যাপটপের শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

আরেকটি আবেদনে বলা হয়েছে, রিচার্জ করা যায় এমন ব্যাটারি এবং পোর্টেবল কম্পিউটিং ডিভাইসকে জ্বালানিচালিত নতুন ল্যাপটপ শক্তির যোগান দেবে যা প্রয়োজন হলে তা থেকে চার্জও নিতে পারবে। এ প্রযুক্তিতে জ্বালানি কোষ হিসেবে এমন ব্যাটারি ব্যবহার করা হবে যাতে ব্যাটারির আকার এবং ওজন কমে যাবে এবং ডিভাইস হবে অনেক হালকা-পাতলা।

একবার তেল দেয়া হলে কম্পিউটার একসপ্তাহেরও বেশি চলবে বলেই বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। বোরোহাইড্রাইটের সঙ্গে পানি মিশিয়ে অ্যাপল ল্যাপটপের জ্বালানির কাঁচামাল তৈরি করা যাবে বলেও অ্যাপল তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছে।

Reade more >>

এক মৃত মুক্তিযোদ্ধার দিনপঞ্জির পাতা থেকে…


মুক্তিবাহিনী ট্রেনিং, ১৯৭১; ছবি. উইকিপিডিয়া


গল্পের লোভে মাঝে মাঝেই আমি এদিক ওদিক ঘুরি। নানা মানুষের সাথে মেশার চেষ্টা করি। মূলতঃ এই গল্প খোঁজার লোভ থেকেই ঢাকার মোহাম্মদপুর কলেজ গেট সংলগ্ন ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগার’-এ গত বছর দশেক ধরে আমার ঘোরাঘুরি। কখনো টানা ঘোরা, আবার কখনো লম্বা সময়ের বিরতিতে যাওয়া। শুধু বিশ্রামাগার নয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বারান্দা বা করিডোরেও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা হয়েছে প্রচুর। ২০০০ সালে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগমুক্তি বিশ্রামাগার’-এ হুইল চেয়ার বন্দি বীরপ্রতীক মোদাস্বার হোসেন মধুর সাথে আমার পরিচয়। কথায় কথায় দেখলাম স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেটের হিসেবে এই ‘স্বল্পশিক্ষিত’ মানুষটির স্বচ্ছ রাজনৈতিক চিন্তার বিন্যাস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি একদিকে যেমন রয়েছে তাঁর অপরিসীম শ্রদ্ধা, তেমনি রয়েছে ক্ষোভ। কিম্বা, বঙ্গবন্ধুর চেয়েও ‘মুজিব বাহিনী’র কেষ্ট-বিষ্টুদের প্রতিই এই ক্ষোভটা যেন বেশি। মধু, যিনি একাত্তরের যুদ্ধে প্রাক-পঁচিশেই সারাজীবনের মতো চলৎশক্তি হারিয়েছেন, তিনি একদিন আমার হাতে তুলে দিলেন একটি সাদা কাগজের সেলাই করা খাতায় বেশ কিছু পাতা লেখা। মধুর চোখে দেখা মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধের পরবর্তী কয়েক বছরের ইতিহাস। —————————————————————– “হঠাৎ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলে উঠলেন, ‘এ্যাটেনশন প্লিজ!’ সকলের দৃষ্টি ও কান চলে যায় রাষ্ট্রপতির দিকে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা মন দিয়ে শুনুন। আমি শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করব। কমিটিতে পুঁজির দরকার।… প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান সর্বপ্রথম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ড কমিটিতে তাঁর এক মাসের বেতন দান করেন।… ক্ষোভে-দুঃখে তখন শুধু পাশে বসা বন্ধু নূরুল আমিনের হাতটা চেপে ধরে শরীরের রাগ মেটালাম। রাজাকারের প্রথম সাহায্যে গঠিত হল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ফান্ড কমিটি।” / মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীক —————————————————————- ফটোকপি করলাম। প্রচুর বানান ভুল। কাঁচা হাতের অক্ষর। তবু, মুক্তিযুদ্ধের অনেক না-বলা কথা আছে তাঁর এই লেখায়। তারপর… তারপর মধ্যবিত্ত জীবনের দৌড়, কর্মব্যস্ততা ও মধুকে আমার ভুলে যাওয়া! মধুর ঐ লেখা আমার কাছে ফাইলবন্দিই হয়ে রইলো। প্রায় বছর দশেক পরে গত বছরের শুরুতে আবার যখন ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রোগ বিশ্রামাগার’-এ গেলাম, মধুর সহযোদ্ধারা জানালেন মধু মারা গেছেন (এর ভেতর আরো দু/তিন বার গেছিলাম। দুর্ভাগ্যক্রমে, সেই সময়গুলোয় প্রতিবারই গিয়ে শুনেছি যে মধু ক’দিনের জন্য দেশের বাড়ি গেছেন)। মধুর স্ত্রী ছিল জানতাম। তার ছেলে-মেয়ে ক’জন জিজ্ঞাসা করতে গেলে অপর এক হুইল-চেয়ারবন্দি সহযোদ্ধা খুব নির্বিকার ভাবে জানালেন, ‘বিয়া তো করিছিল শেষের দিকি দেশের বাড়ির ঘর দেখা-শুনা করতি আর নিজির কিছু সেবা-যত্নির জন্যি। মাঝে মাঝে দেশের বাড়ি গেলি পর সেবা করার লোক লাগে না? ছেলে-মেয়ে হবি কীভাবে? যুদ্ধে ওর পায়ের মতো পেনিসও উড়ি গিছিল!’ চমকে উঠলাম। মধুর এই কয়েক পাতার অপ্রকাশিত আত্মজীবনীতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সাথে মরিয়া হয়ে দেখা করা কিছু তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ভেতর জনৈক তরুণের হঠাৎই নিজের হাতে ট্রাউজার ও অন্তর্বাস খুলে হারিয়ে যাওয়া পৌরুষের জন্য হাহাকার করার বেদনার কথা লেখা আছে। বঙ্গবন্ধু তখন দু’হাতে চোখ চাপা দিয়েছিলেন। মধুর হাতে লেখা দিনপঞ্জির পাতায় আবার চোখ বুলাই। হ্যাঁ, যুদ্ধে যে ‘পুরুষত্ব’ হারিয়েছেন সেকথা তিনি নিজেও লিখেছেন। madhu_4.jpg……. মোদাস্বার হোসেন মধু বীর প্রতীকের ডায়েরির একটি পাতা ……. যাহোক, মধুর মৃত্যুর কথা জেনে ভয়ানক খারাপ লাগলো। এর পরপরই ২০০৯-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাস জুড়ে আমি প্রায় কুড়ি/একুশ জন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করি। আলোকচিত্রও তুলি। কিন্তু, প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরাটা হারিয়ে যায়। এর পর আর একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কিনে ছবি তুলি। এবার ভাইরাস আক্রমণ। যাহোক, অল্প-স্বল্প কিছু ছবি এখনো আছে। কিন্তু, মধুর ছবিই তো নেই। এই সব আহত বীর যোদ্ধাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে দেখেছি যে সতেরো থেকে পঁচিশের ভেতর হাত, পা, চোখ, কাণ, শিরদাঁড়া তো বটেই… অনেকেই তাদের ‘মেল-অর্গ্যান’ও হারিয়েছেন। এই যে আমি শব্দটি বাংলায় না লিখে ইংরেজিতে লিখলাম, এর কারণ হলো শৈশব থেকে যে ‘রাবীন্দ্রিক’, ‘পিউরিটান’ ও রীতিমতো ‘ভিক্টোরিয়’ শুচিতা-শ্লীলতাবোধে বাঙালী মধ্যবিত্ত বিশেষতঃ বাঙালী মধ্যবিত্ত নারীকে বড় করে তোলা হয়, সেই শিক্ষণের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে একজন নারী লেখক কিছুতেই খুব কড়া সত্যকেও কড়া করে অনেক সময়ই বলতে পারেন না। কিন্তু, মুক্তিযুদ্ধে আপনার-আমার মতো মধ্যবিত্ত অংশগ্রহণ করেছেন খুব কম সংখ্যায়। সমাজের নিম্নবর্গের মানুষই অংশ নিয়েছেন বেশি। ফলে, এই প্রৌঢ় বা বৃদ্ধ মানুষগুলো… আমি তাদের বিপরীত লিঙ্গের ও বয়সে অনেক ছোট একজন হওয়া সত্ত্বেও… আমাকে ‘মা’ সম্বোধন করেও তারা কোনো রাখ-ঢাক না করেই বলেছেন যুদ্ধে তাদের ‘শিশ্ন’ হারানোর কথা। খুব অকপটভাবে। শ্লীলতা-শুচিতা বোধের কোনো রাখ-ঢাক বা মধ্যবিত্ত ভণিতা ছাড়াই। আমার সো-কল্ড শ্লীলতাবোধ যে অনেক বেশি অশ্লীল, তাও আমি এঁদের কাছ থেকেই শিখলাম। এই ভয়াবহ ইতিহাস শুনতে শুনতে আমার এমনও মনে হয়েছে যে মুক্তিযুদ্ধে শুধুই নারীর আব্রু হারানোর কথা আমরা পড়েছি এতদিন। পুরুষ যে তার ‘পুরুষত্ব’ হারিয়েছে, সেই ইতিহাসও কি ‘পুরুষতন্ত্র’ই আলোতে আসতে দেয় নি এতদিন? কারণ, নারী তো এমন এক ‘বস্তু’ যার নিগ্রহ বা অবমাননা খুব সহজ ও সম্ভব। কিন্তু, পুরুষ যখন ‘পুরুষত্ব’ হারায়, তখন সেই আখ্যান অন্য পুরুষ কি লিখতে পারে না পুরুষের ভাবমূর্তির অবনমনের ভয়ে? ‘মধু’র আত্মজীবনী কিছুটা সংশোধন ও পরিমার্জনা সাপেক্ষে দেওয়া হলো।
Reade more >>

Recent Posts